দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাজধানীর শাহবাগে পার্বত্য চট্টগ্রামে সকল জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত, মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা চালু, পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাস দমনের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় শহীদ হাদী চত্বরে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়ক মো. মোস্তফা আল ইহযায।
প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন।
এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল খন্দকার ফরিদুল আকবর, অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার, বজলুর রহমান বাবলু, মিজানুর রহমান, জিয়া উল হক, রফিকুল ইসলাম, নারগিস জুই, সেলিম রেজা বাচ্চু, শাহপরান সাইম, রোজিনা আক্তার ও তারেক রহমান শাওনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় স্থায়ীভাবে বসবাসরত বাঙালি জনগোষ্ঠীকেও আয়কর অব্যাহতির আওতায় আনার দাবি জানান। তাদের বক্তব্য, একই অঞ্চলে বসবাস করেও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য বিদ্যমান কর-সুবিধা থেকে বাঙালিরা বঞ্চিত হওয়ায় বৈষম্যের সৃষ্টি হচ্ছে।
সমাবেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট পারভেজ তালুকদার বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সেনাবাহিনী'র সদস্যরা জীবন দিচ্ছেন। এদিকে সন্তু লারমার পালিত সন্ত্রাসীরা পাহাড় নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। কিছুদিন পূর্বে জাতীয় সংসদে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তিন পার্বত্য জেলায় উপজাতিদের জন্য আয়কর মওকুফ করেছে। এটা পার্বত্য এলাকার বাঙ্গালীদের জন্য চরম বৈষম্যের ও হতাশার। বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী নেই, আমরা সবাই বাংলাদেশী। পার্বত্য চট্টগ্রামে উভয়ের জন্য ট্যাক্স মওকুফ করা হোক। পার্বত্য চুক্তি সকল সমস্যার মূল কারিগর৷ এই পার্বত্য চুক্তি বাতিল করা হোক। পার্বত্য চট্টগ্রাম হতে হেডম্যান প্রথা, রাজার প্রথা বাতিল করা হোক। ভূমির সমস্যা সমাধান করা হোক। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কোটা বৈষম্য দূর করা হোক। সবার জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করা হোক।
পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ, ঢাকা মহানগর শাখার সহ-সভাপতি মো: মিজানুর রহমান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙ্গালীরা কঠিন বৈষম্যের শিকার। পার্বত্য এলাকার উপজাতিদের শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে কোটার সুবিধা রয়েছে, অন্যদিকে বাঙ্গালীদের কোনো কোটা সুবিধা নেই। এই কোটা ব্যবস্থা বাতিল করা হোক এবং সবার জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করা হোক।
স্টুডেন্ট ফর সভেরেন্টি'র আহ্বায়ক জিয়াউল হক বলেন, বাংলাদেশের এক দশমাংশ নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম গঠিত। পার্বত্য চট্টগ্রামকে নিয়ে খ্রিস্টান রাষ্ট্র করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ১৮৬০ সালের আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছিলো না। ব্রিটিশদের পরিকল্পনা ছিলো খ্রিস্টান রাষ্ট্র করা। তাই ব্রিটিশরা ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম আইন চালু করে। ১৮৬০-১৯০০ সাল পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন দেশ হতে চাকমা, মার্মা, ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের লোকজন এসে বসবাস করছে। ব্রিটিশরা ধাপে ধাপে তাদেরকে নিয়ে আসে। ১৯৯৭ সালে দেশ বিরোধী একটি চুক্তি করা হয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত উপজাতিদের জন্য আয়কর মওকুফ করা হয়েছে, বাঙ্গালীদের প্রতি বৈষম্য রয়েই গেলো। বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী নেই, সবাই বাংলাদেশী। কিছু এনজিও ও বামপন্থী দালাল চক্রের লোকদের পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশ রোধ করতে হবে।
লে. কর্নেল(অব:) খন্দকার ফরিদুল আকবর বলেন, ১৯০০ সালের হিল ট্র্যাক্টস্ ম্যানুয়েল বাতিল করা দরকার। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য অনেক কিছু করে গিয়েছেন। বাংলাদেশে আদিবাসী কেউ নেই। নাথান বম নতুন করে কেএনএফ সংগঠন সৃষ্টি করে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি ঘোলাটে করেছে। দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীদের আরও শক্তিশালী করতে হবে। ৫০০০ জন আনসার ভিডিপি সদস্যদের সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে ট্রেনিং করাতে পারলে ভালো হতো। তাদেরকে পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস দমন করা সম্ভব হতো। আমাদের এই সক্ষমতা রয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী ৫৫ বছরে অনেক সরকার ক্ষমতায় এসেছেন কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সরকারই উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে নি। শুধুমাত্র জনগণের পক্ষে সম্ভব সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙ্গালীদের প্রতি বৈষম্য দূর করা হোক। পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা বাঙ্গালীদের উপর নির্যাতন করছে। রাঙ্গামাটিতে চাঁদার দাবীতে এক গরীব কৃষকের ৭০০/৮০০ পেঁপে গাছ কেটে ফেলেছে। পাহাড়ে সেনা ক্যাম্পের মাধ্যমেও সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করা যাচ্ছে না। দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মধ্যে রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে বিদেশীদের গভীর ষড়যন্ত্র চলছে, তারা খ্রিস্টান রাষ্ট্র করার পায়তারা চালাচ্ছে। প্রয়োজনে জাতীয় সমাবেশ ডাকেন, আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি। দেশপ্রেমিক ছাড়া সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা যায় না।
সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক মোস্তফা আল ইহযাব বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে উপজাতিদের ন্যায় বাঙ্গালীদের জন্যও আয়কর মওকুফ করতে হবে। একদেশে দুই নীতি বন্ধ করা হোক। পার্বত্য এলাকায় বাঙ্গালীদের কোনো কাজ করতে হলে উপজাতি সন্ত্রাসীদের চাঁদা দিতে হয়। সম্প্রতি উপজাতি সন্ত্রাসীরা চাঁদার দাবীতে রাঙ্গামাটিতে নিরীহ কৃষকের ৮০০ পেঁপে গাছ কেটে ফেলেছে, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।পার্বত্য এলাকার সবগুলো সরকারি/বেসরকারি দপ্তর উপজাতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সরকারি চাকরিতে ও শিক্ষা ক্ষেত্রে উপজাতি কোটা বাতিল করা হোক। আদিবাসী ইস্যু নিয়ে ষড়যন্ত্র বন্ধ করা হোক। বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী নেই। সন্তু লারমা, দেবাশীষ রায়, ইয়েন ইয়েন, অগাস্টিনা চাকমা, মাইকেল চাকমা, সুহাষ চাকমা, ড. ইফতেখারুজ্জামান, জাকির হোসেন, দীপায়ন খীসা সহ বামপন্থী নেতারা পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। তারা সবাই দেশের শত্রু। অবিলম্বে দেশের এই শত্রুদের গ্রেফতার করা।
কে